ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের প্রায় ২৭ কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে যাত্রী ও চালকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারী যানবাহন চলাচলের চাপে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের রামপুর, লালপোল, লেমুয়া ব্রিজ, কসকা, খাইয়ারা, নিজকুঞ্জরা ও মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পিচ উঠে গিয়ে গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেলের জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী ট্রাকচালক আবদুর রউপ জানান, বড় গর্তের কারণে গাড়ি খুব ধীরগতিতে চালাতে হয় এবং রাতের বেলা গর্ত দেখা না যাওয়ায় এক্সেল ভেঙে যাওয়ার মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল আরোহী কামরুজ্জামান সুমন বলেন, বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া এসব গর্তে পড়ে ছোট যানবাহনগুলো যেকোনো সময় উল্টে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, যা পরিবার নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। ফেনীস্থ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যা পুলিশের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে (সওজ) অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে, তবে বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত পুরোদমে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না করলে এই জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে ২৭ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির কারণে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।



0 মন্তব্যসমূহ