সংবিধানে ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সাংস্কৃতিক সম্মান’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এই দাবি জানান। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, এএলআরডি, টিআইবিসহ ১৬টি মানবাধিকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদিবাসী শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা না করে সরাসরি সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম সংবিধানে আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত বিধানগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষায় ভূমি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আরেক সংসদ সদস্য আন্না মিনজ আদিবাসী ইস্যুতে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন নীতিগত নথিতে আদিবাসীদের অধিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়া আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং দেশের বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সঞ্চালনায় সেমিনারে মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন গবেষক ঈশিতা দস্তিদার। সেমিনার থেকে সরকারিভাবে আদিবাসী দিবস পালন, আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা কার্যকর করা এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন উন্নয়নে বিশেষ নীতিমালা প্রণয়নসহ বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সংবিধানে আদিবাসী শব্দের স্বীকৃতি এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। রাজধানীর এক সেমিনারে তারা ভূমি কমিশন গঠনসহ আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।



0 মন্তব্যসমূহ