চট্টগ্রাম জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শিক্ষক ও প্রশাসনিক জনবল সংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে জেলায় শিক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭০ জন, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৭ জনে। বর্তমানে জেলার ২ হাজার ২৬৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮২৪টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর পশ্চিম গাটিয়া চেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র ২০ জনে নেমে এসেছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়ায় অভিভাবকরা সেদিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া জেলার ৫০০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০-এর কম এবং নগরের লালদিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী না থাকায় বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলার ঘরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত তাদের বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ ও উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। জেলার ১ হাজার ১৬৬টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট এবং ৫০০টিতে খেলার মাঠ নেই। শিক্ষক সংকটের বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, মামলার কারণে দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, ৫২৬ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং ভবন সংকট সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত আছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মুহম্মদ আমির উদ্দিন মনে করেন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
চট্টগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে শিক্ষার্থী। শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে অভিভাবকরা বিমুখ হচ্ছেন। শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ।



0 মন্তব্যসমূহ