জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের চা শিল্পে গুণগত মান, উৎপাদন, রপ্তানি এবং শ্রমিক কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এই আয়োজনে সর্বোচ্চ গুণগতমানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বাগান হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছে কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের ঐতিহ্যবাহী মধুপুর চা বাগান। গত ২০ জুন শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উন্নতমানের চা উৎপাদন ও উৎকর্ষ ধরে রাখার স্বীকৃতি হিসেবে মধুপুর চা বাগানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
দেশের অন্যতম প্রাচীন চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঝিমাই, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মধুপুর এবং শ্রীমঙ্গলের দিনারপুর ও সাতগাঁও চা বাগান পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়লা রহমান কবীর ১৯৭৫ সাল থেকে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর প্রথম নারী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে নিহাদ কবির প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লায়লা রহমান কবীরের স্বামী প্রয়াত অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আহমদুল কবির ছিলেন সাতগাঁও চা বাগানের স্বত্বাধিকারী এবং দৈনিক সংবাদের সম্পাদক। বর্তমানে তার উত্তরসূরি আলতামাশ কবির (মিশু) দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। একরপ্রতি সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের জন্য শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগান এবং শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক হিসেবে দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড পুরস্কৃত হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য মির্জাপুর চা বাগান এবং উদ্ভাবনী বাজারজাতকরণে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড সম্মাননা লাভ করেছে। এছাড়া চা শিল্পের আধুনিকায়নে ‘বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রি’ ও ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে দুটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে চা বোর্ড।
উল্লেখ্য, ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলক চাষের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়, যেখানে প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে থাকা ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্যটি চা শ্রমিকদের শ্রম ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। নতুন নতুন ক্লোন এবং জেসমিন, রোজ ও মাসালা টি-এর মতো বৈচিত্র্যময় চা উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।
জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার জিতেছে মধুপুর চা বাগান। শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয়।



0 মন্তব্যসমূহ