দেশের মাগুরা, নওগাঁ, নেত্রকোনা ও রাঙামাটিসহ প্রায় ৮ থেকে ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজে নিজস্ব ক্যাম্পাস কিংবা হাসপাতাল ভবন নেই। পর্যাপ্ত শিক্ষক, ল্যাবরেটরি এবং একাডেমিক পরিবেশের অভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা চরম সংকটের মধ্য দিয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও ট্রেইনিংয়ের জন্য চট্টগ্রামে আসতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ভবন নির্মিত হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।
বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রায় ১২ হাজার আসন রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এমবিবিএস পাস করছেন। তবে এই বিশাল সংখ্যক চিকিৎসকের কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় প্রতি তিন বছরে প্রায় ২৫ হাজার চিকিৎসক সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালেও নতুন চিকিৎসকদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় তারা নামমাত্র পারিশ্রমিকে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার ডিউটির বিনিময়ে একজন চিকিৎসক মাত্র ২ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ এই পরিস্থিতি উত্তরণে কিছু কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, যেসব মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাস ও মানসম্মত হাসপাতাল নেই, সেগুলোতে অবিলম্বে ছাত্র ভর্তি বন্ধ করা উচিত। এছাড়া বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী সক্ষমতাসম্পন্ন মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করে তাদের শিক্ষা জীবন সুরক্ষিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করার আগে কোনোভাবেই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা ঠিক নয়।
দেশের ৮-১০টি মেডিকেল কলেজে নিজস্ব ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল না থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ল্যাব ছাড়াই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এই সংকট নিরসনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি বিশেষজ্ঞদের।



0 মন্তব্যসমূহ