ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই যানজট সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় হাজারো যাত্রী, চালক ও পথচারী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর আগে মঙ্গলবারও এই এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ উপজেলার বেড়তলা থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে বারিউড়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড় থেকে সদর উপজেলার সুহিলপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন স্থবির হয়ে আছে। বিশ্বরোড গোলচত্বরে চলমান নির্মাণকাজ, সরু রাস্তা, বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকা এবং টানা বৃষ্টিতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধিকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে যানজট আরও প্রকট হয়েছে। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক মিশুক মিয়া জানান, সরাইলের বারিউড়া থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত আসতে তার সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের বাসচালক আজিজুর রহমান বলেন, বিশ্বরোড মোড়ের গর্তের কারণে ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে ৪০ মিনিট সময় লাগছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সড়কটি এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি। সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, বিশ্বরোড মোড়ে মাত্র একটি পথ খোলা থাকায় এবং চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
সরাইলে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে স্থবির জনজীবন। নির্মাণকাজ ও খানাখন্দের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।



0 মন্তব্যসমূহ