সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কিছু ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে দেশের সংবিধানে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এর আগে টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করা হয়েছিল।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। হাইকোর্টের সেই রায়ে বলা হয়েছিল, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে, যার চূড়ান্ত রূপ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
আদালতের রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ৭ক, ৭খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদসহ গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পুরো সংশোধনী বাতিল না করে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের মতো বিষয়গুলো বহাল রাখা হয়েছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হওয়া এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া এই আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পক্ষভুক্ত হন।
সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়।



0 মন্তব্যসমূহ