চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় একটি লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ১০ শ্রমিকের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন পটিয়ার হুলাইন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫) এবং বোয়ালখালীর বাসিন্দা দিদারুল আলম (৩২)।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় অবস্থিত কনফিডেন্স সল্ট কোম্পানির কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির তথ্যমতে, কারখানায় কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে কর্মরত ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উজ্জ্বল দাশ (৫৩), চট্টগ্রাম নগরের মাদারবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার চুনতীর সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের মোহাম্মদপুর এলাকার জাহিদুল আলম (৪২), বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার জাহিদ হোসেন (৩৮), চর খিজিরপুর এলাকার নূর নবী (২৫), পটিয়ার শান্তিহাট এলাকার মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের কাঞ্চননগর এলাকার সেলিম উদ্দিন (৩০)।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে নুরুল আলম এবং ৯টার দিকে দিদারুল আলমের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাকিদের মধ্যে আরও তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ঘটনার বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন জানান, কারখানায় ঝালাইয়ের কাজ চলার সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পাশে কাগজের স্তূপ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এদিকে কনফিডেন্স সল্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও আটজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার বিস্তারিত জানুন।



0 মন্তব্যসমূহ