জ্বালানিসংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নতুন শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সংযোগ এবং পুরোনো কারখানায় লোড বৃদ্ধি বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পেট্রোবাংলাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে তিতাসসহ ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে জমা থাকা ১ হাজার ৮৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আবেদন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ৫৫০টি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়েও সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন শিল্পমালিকেরা। চট্টগ্রামে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কর্ণফুলী স্টিল মিলস স্থাপন করেছে টি কে গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার জানান, গ্যাস না পাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন চালাতে গিয়ে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) কুমিল্লায় ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দুটি কারখানা করলেও গ্যাসের অভাবে সেগুলো চালু করতে পারছে না। এতে প্রতি মাসে তাদের প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ গুনতে হচ্ছে। একইভাবে সিটি গ্রুপ মুন্সিগঞ্জে ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও পাঁচটি কারখানা চালু করতে পারছে না।
ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী জানান, গ্যাস না পেয়ে অনেক কারখানা এলপিজি বা এলএনজি ব্যবহার করছে, যা উৎপাদন ব্যয় তিন গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে স্কয়ার গ্রুপ ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপও তাদের নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দ্রুত গ্যাস সংযোগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জ্বালানি সচিবকে চিঠি দিয়েছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে বলেন, সরবরাহ বাড়লে পুনরায় সংযোগ দেওয়া শুরু হবে। অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
জ্বালানিসংকট না কাটা পর্যন্ত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।


0 মন্তব্যসমূহ