Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

শরীয়তপুরের বুড়িরহাটে শতবর্ষী নৌকার হাট: বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে কেনাবেচা

শরীয়তপুরের বুড়িরহাটে শতবর্ষী নৌকার হাট: বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে কেনাবেচা

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাটে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট জমে উঠেছে। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে এলাকার মানুষের যাতায়াত ও কৃষিকাজের জন্য নৌকার চাহিদা বাড়ায় মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই হাটের ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে।

শরীয়তপুর-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রতি মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ শতকের শুরুতে কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য বাজারটি শুরু হলেও পরে এটি নৌকার হাট হিসেবে পরিচিতি পায়। বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সম্ভুনাথ পোদ্দার জানান, ১৯৪৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার অন্তত ৪০ বছর আগে থেকেই এখানে নৌকার হাটের প্রচলন ছিল। বিদ্যালয়ের মাঠে এই হাট বসলেও ক্রেতা বা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো খাজনা নেওয়া হয় না।

হাটে আসা নৌকার মধ্যে নতুন নৌকা ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং পুরোনো নৌকা ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সদর উপজেলার পাটানিগাঁও গ্রামের ৭০ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি অনিল মণ্ডল জানান, তিনি দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে এই হাটে নৌকা বিক্রি করছেন। বাবার কাছে কাজ শিখে তিনি আমগাছের কাঠ দিয়ে এসব নৌকা তৈরি করেন। ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর থেকে আসা ৮০ বছর বয়সী কৃষক আয়ুব আলী জানান, বর্ষায় যাতায়াত ও চাষাবাদের প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত এই হাট থেকে নৌকা কেনেন।

প্রতি হাটে গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি নৌকা বিক্রি হয়। সদর, ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মিস্ত্রিরা বাড়িতে নৌকা তৈরি করে এই হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। তবে বর্তমানে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক মিস্ত্রি এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সংক্ষেপে:
শরীয়তপুরের বুড়িরহাটে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। প্রতি মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের প্রয়োজনে এই হাটে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
শরীয়তপুরের বুড়িরহাটে শতবর্ষী নৌকার হাট: বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে কেনাবেচা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ