ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ২৬১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে কৃষির সার, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ মোট নয়টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৮০ টাকা ১৭ পয়সা দরে মোট ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকার মসুর ডাল কেনা হবে। এর মধ্যে ঢাকার মদিনা ট্রেডিং করপোরেশন ৫ হাজার টন এবং খুলনার জয়তুন অটো রাইস ও ডাল মিলস লিমিটেড ৫ হাজার টন ডাল সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ কোটি লিটার রাইস ব্র্যান তেল কেনা হবে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। প্রতি লিটার তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঢাকার গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ, গাইবান্ধার প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড, যশোরের মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেড এবং ঢাকার মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড।
একই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের ছয়টি কার্গো বার্থে পাঁচ বছরের জন্য ২৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া কানাডীয় কমার্শিয়াল করপোরেশনের মাধ্যমে ১৯২ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার টাকায় ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিতরণ ব্যবস্থা নির্মাণেও পৃথক দুটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
বৈঠকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে অতিরিক্ত ৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার পরামর্শক নিয়োগ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ পাটের বস্তা কেনার প্রস্তাবও গৃহীত হয়।
টিসিবির জন্য ২৬১ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় ১ কোটি লিটার রাইস ব্র্যান তেল ও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনছে সরকার। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ও সার আমদানিসহ মোট ৯টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।



0 মন্তব্যসমূহ