বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান ও নান্দনিকতাবোধের পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের রঙের বাজারে এক বিশাল রূপান্তর ঘটেছে। এক সময়ের সাধারণ চুনকাম এখন ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশে রঙের বাজার সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২০ সালেও ছিল মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ এই বাজারের আকার ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এলিট পেইন্টের ব্র্যান্ড এ্যাকোয়া পেইন্টসের পরিচালক শায়ান সিরাজ জানান, ১৯৫২ সালে দেশে রঙের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ৭০ বছরের পথচলায় এখন দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য সরবরাহ করছে। তবে বাংলাদেশে মাথাপিছু রঙের ব্যবহার এখনো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বেশ কম। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় মাথাপিছু ব্যবহার ৩ কেজির বেশি হলেও বাংলাদেশে তা ২ কেজির নিচে।
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) সভাপতি মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, ক্রেতারা এখন কেবল রং নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চান। বর্তমানে ফাঙ্গাসরোধী ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী রঙের চাহিদা বাড়ছে। তবে বৈশ্বিক সংকট, ডলারের চড়া মূল্য এবং কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্কের কারণে এই শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় উৎপাদনে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এই খাতের টেকসই বিকাশে শুল্ক ও নীতিসহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশে রঙের বাজার সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আধুনিক জীবনযাপন ও আবাসন খাতের বিকাশে ২০৩৫ সাল নাগাদ এই শিল্প ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।



0 মন্তব্যসমূহ