চট্টগ্রামের নবঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদরদপ্তরের নির্ধারিত স্থান পরিবর্তনের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের আহ্বানে এই কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই হরতালের কারণে উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার ইউনিয়নে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনকারীরা ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফেলাগাজী দিঘি-হেয়াঁকো সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এতে শত শত বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকা পড়ে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
হরতালের প্রভাবে অধিকাংশ দোকানপাট ও বিপণিকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) সদরদপ্তরটি ভূজপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ভৌগোলিক বাস্তবতার পরিপন্থী। তারা সদরদপ্তরটি বর্তমান স্থান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে সদরদপ্তরটি যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানিয়েছেন, হরতাল এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদরদপ্তরের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে ছয় ইউনিয়নে চলছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। সড়ক অবরোধের ফলে ফেনী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ