দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নবগঠিত বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিইএ) ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই সংস্থার প্রথম চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দলীয় সূত্রমতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চেয়ারম্যানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
চেয়ারম্যান পদের দৌড়ে বর্তমানে বিএনপির ছয়জন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এবায়দুল হক চাঁন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির এবং বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন।
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস হওয়ার পর গেজেট প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত একটি স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়। চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় থাকা আলহাজ্ব এবায়দুল হক চাঁন জানান, সুযোগ পেলে তিনি বরিশালকে প্রাচ্যের ভেনিস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চান। অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির বলেন, দলের হাইকমান্ড দায়িত্ব দিলে তিনি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন। অন্যদিকে জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া জানান, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন গঠিত হলেও দীর্ঘ দুই যুগেও কোনো স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গড়ে ওঠেনি। ফলে পরিকল্পিত আবাসন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে নানা সংকট দেখা দেয়। ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীর প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে ওঠে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ছয় নেতার নাম নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দ্রুতই ঘোষণা হতে পারে প্রথম চেয়ারম্যানের নাম। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



0 মন্তব্যসমূহ