২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মিছিল ও প্রতিবাদকে এক সদস্য কর্তৃক ‘মবোক্রেসি’ হিসেবে অভিহিত করা নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে জামায়াতের কর্মসূচিকে ‘মবোক্রেসি’ বলা হয়েছে, যা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া বা এক্সপাঞ্জ করা প্রয়োজন।
রাশেদুল ইসলামের এই দাবির প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ‘মবোক্রেসি’ কোনো অশ্লীল শব্দ নয় এবং এটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিষয়ও নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে পরবর্তী বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এই বিষয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে বিতর্কে যোগ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘মবোক্রেসি’ শব্দটি কোনো ভালো অর্থ বহন করে না এবং এটি অত্যন্ত আপত্তিকর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে বিএনপি বা অন্যান্য দলও একই ধরনের গণতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তবে কি সেগুলোও ‘মবোক্রেসি’ ছিল? তিনি এই শব্দটিকে মহান সংসদের জন্য বেমানান উল্লেখ করে তা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘মবোক্রেসি’ বর্তমানে একটি সাধারণ রাজনৈতিক পরিভাষায় পরিণত হয়েছে এবং এটি প্রায় সবার বক্তব্যেই শোনা যায়। এটি কোনোভাবেই অসংসদীয় বা অশ্লীল শব্দ নয়। ফলে সংসদে এই শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
সংসদে জামায়াতের বাজেট পরবর্তী প্রতিবাদকে মবোক্রেসি বলা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানালেও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা নাকচ করে দেন এবং একে সংসদীয় ভাষা হিসেবে বহাল রাখেন।



0 মন্তব্যসমূহ