চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের ওপর কোরবানির পশুর চামড়া স্তূপ করে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নগরের আতুরার ডিপো থেকে আমিন জুট মিল পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকা জুড়ে সড়কের ওপর চামড়া লবণজাত করার কাজ চলায় চারদিকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। পবিত্র ঈদুল আজহার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়ক থেকে এসব চামড়া সরানো হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম এই সড়কের ফুটপাত ঘেঁষে খোলা অবস্থায় এবং কিছু ক্ষেত্রে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে হাজার হাজার চামড়া। এর ফলে ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নাকে-মুখে কাপড় চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ। তবে শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০টি চামড়া সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০টি গরুর, ৫৩ হাজার ৮০০টি ছাগলের এবং ১১ হাজার ৯৫০টি মহিষের চামড়া রয়েছে। সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ হওয়ায় গুদামে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে সড়কের ওপর চামড়া রাখতে হয়েছে। তবে সোমবারের মধ্যে সব চামড়া সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, আড়তদারদের অনুরোধে চামড়া রাখার জন্য দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছিল, যা পরে আরও এক দিন বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও চামড়া না সরানোয় অভিযান পরিচালনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
উন্মুক্ত স্থানে এভাবে চামড়া রাখায় জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া জানান, চামড়ার উৎকট দুর্গন্ধ ও রাসায়নিক বিষক্রিয়ার ফলে বাতাসে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
চট্টগ্রামের ব্যস্ততম সড়কে চামড়ার স্তূপ করে রাখায় ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ। দ্রুত চামড়া সরিয়ে নিতে প্রশাসনের আল্টিমেটাম।



0 মন্তব্যসমূহ