ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, যারা বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বের কাছে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়, মূলত তারাই এই সিনেমার প্রদর্শনীতে বাধা দিয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ১ নম্বর গেইট এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বক্তব্য প্রদানকালে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একার সম্পদ নয়, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। উভয় ঐতিহাসিক সময়েই দেশের সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা বাংলাদেশকে মৌলবাদের চারণভূমি বানাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকার সংকটে পড়বে। এসব চরমপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ দেশে দীর্ঘকাল ধরে আজানের ধ্বনি, মন্দিরের ঘণ্টা এবং বাউলদের গান সহাবস্থানে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দক্ষিণপন্থী ও ডানপন্থী চরমপন্থার উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাজার ভাঙচুর এবং কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটছে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা সম্পর্কে রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন, এটি একটি সম্পূর্ণ সামাজিক ও পারিবারিক চলচ্চিত্র যা সব শ্রেণির মানুষ দেখতে পারে। এমন একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা সিনেমাটির প্রদর্শনীতে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।
বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে সরাইলে মানববন্ধন করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি একে বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।



0 মন্তব্যসমূহ