তীব্র সমালোচনা ও জনরোষের মুখে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক। সোমবার দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক খালেক জানান, গত শনিবার দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘প্রিয় ব্যক্তি’র পরিবর্তে ‘প্রিয় নবী’ শব্দটি ব্যবহার করে ফেলেন। এটিকে তিনি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এই ঘটনার জন্য মহান আল্লাহর কাছে তওবা করেছেন বলে জানান। এর আগে তিনি নিজের ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী এক ফেসবুক পোস্টে এই ধরনের বক্তব্যকে ‘কুফর’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে তওবা করার আহ্বান জানান।
এদিকে, এম এ খালেকের ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকদের ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে প্রতিহত করার হুমকি দেন ফেনী পৌর যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক খালেক বলেন, কারো ব্যক্তিগত অতিউৎসাহী আচরণের দায়ভার তিনি বা তার দল গ্রহণ করবে না।
উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক এম এ খালেক এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচনায় এসেছেন। গত ১৬ এপ্রিল একটি বিদ্যালয়ে ভিআইপি প্রটোকল নেওয়া এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিএনপিকে ‘ফ্যাসিস্ট দল’ বলে সম্বোধন করে তিনি রাজনৈতিক মহলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন। প্রতিবারই তিনি শব্দচয়ন ভুল হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে সংবাদ সম্মেলন ডেকে ক্ষমা চাইলেন ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক এম এ খালেক। তিনি একে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে দাবি করেছেন।



0 মন্তব্যসমূহ