রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মূল্যবান জমি অনুমোদন ছাড়াই একটি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর বি-ব্লক এলাকায় অবস্থিত কোম্পানির প্রায় ৭০ শতাংশ সংরক্ষিত জমি অবৈধভাবে ব্যবহারের এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, যমুনা অয়েলের সাবেক কর্মকর্তা এম হোসেন এবং বর্তমান ম্যানেজার (এইচআর) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে ‘এস এ ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জায়গাটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। ওয়সার একটি প্রকল্পে নিয়োজিত ওই প্রতিষ্ঠানটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী মজুদ করে আসছিল। তবে এই বিষয়ে কোম্পানির স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা বোর্ড থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ হোসাইন ভূঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) মোহাম্মদ জুবায়ের চৌধুরী ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবৈধ কার্যক্রমের সত্যতা পান এবং এক ব্যক্তিকে ফোন করলে তিনি নিজেকে ‘যমুনার অফিসার’ পরিচয় দিয়ে জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজের পরিচয় দিলে ওই ব্যক্তি নীরব হয়ে যান।
অভিযুক্ত ম্যানেজার (এইচআর) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, জায়গাটি ভাড়া দেওয়া হয়নি বরং নিচু জমি ভরাট করার শর্তে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বোর্ড বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ‘এস এ ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কর্মচারী জুয়েল দাবি করেছেন তারা ভাড়া দিয়ে জায়গাটি ব্যবহার করছেন, যদিও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আলী রিয়াল ভাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) মোহাম্মদ জুবায়ের চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামে যমুনা অয়েল কোম্পানির সরকারি জমি অবৈধভাবে একটি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে সিবিএ।
-6a3d27e68269b.webp)


0 মন্তব্যসমূহ