পদত্যাগকারী জামায়াতপন্থী আইন কর্মকর্তাদের দেওয়া বক্তব্যকে পুরোপুরি রাজনৈতিক লোক দেখানো বা স্টান্টবাজি হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এম বদরুদ্দোজা। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী পদত্যাগীদের গত চার মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত দাবি করেছেন।
এম বদরুদ্দোজা বলেন, পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা যেসব রাজনৈতিক বিষয় সামনে এনেছেন তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর তারা অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় গঠন না করার প্রতিবাদে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বলেন, দেশের ইতিহাসে সরকার পরিবর্তনের পর আইন কর্মকর্তারা সাধারণত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। কিন্তু এই কর্মকর্তারা চার মাস ধরে সরকারের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পর এখন রাজনৈতিক অজুহাত দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, অপসারিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা এমন রাজনৈতিক স্টান্টবাজি করছেন, যা প্রত্যাশিত নয়।
ব্রিফিংকালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট শাখার সদস্যসচিব গাজী তৌহিদুল ইসলাম এবং আইনজীবী জামিল আক্তার এলাহী উপস্থিত ছিলেন। এম বদরুদ্দোজা অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানান, এই চার মাস তারা সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন নাকি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হোক। তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সব ফাইল পুনরায় পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পদত্যাগী জামায়াতপন্থী আইন কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি বলেছেন বিএনপির এম বদরুদ্দোজা। চার মাস সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এখন ভিত্তিহীন অভিযোগ করায় তাদের কাজের তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।



0 মন্তব্যসমূহ