পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বা ‘পুশ ব্যাক’ প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সিপিআইএমের একমাত্র বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত এই বিধায়কের এমন অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই পুশ ব্যাক প্রক্রিয়া অনৈতিক ও আইনবহির্ভূত হলেও ভারতে এটি বর্তমানে একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মুস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, রাজ্যে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী থাকুক তা তারা চান না। তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা চলে যাক এবং পুশ ব্যাক হোক, তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন দেশের কোনো বৈধ নাগরিক আতঙ্কিত বা বৈষম্যের শিকার না হন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, এ পর্যন্ত কতজনকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হয়েছে সে বিষয়ে বিধানসভায় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
বিধায়কের এই মন্তব্যের পর মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রাইটসের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি একে বিজেপির আদর্শের পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী ভারতের এই পুশ ব্যাক নীতির তীব্র সমালোচনা করে একে নিষ্ঠুরতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংস্থাটির মতে, মানবাধিকার উপেক্ষা করে পরিবারগুলোকে সীমান্তে ফেলে রাখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাক সমর্থন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। মানবাধিকার কর্মীদের মতে এই প্রক্রিয়া অনৈতিক হলেও বিধানসভায় তার এই অবস্থান নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ