বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, কবীর চৌধুরী, শহীদ মুনীর চৌধুরী ও আতাউর রহমানের মতো গুণীজনদের এই জন্মভূমি একসময় ভুলুয়া নামে পরিচিত ছিল। ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক কারণে নোয়াখালী ভেঙে ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা গঠিত হলেও এই জনপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভ্রমণের শুরুতে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে যাত্রা করে ফেনী হয়ে পর্যটকরা পৌঁছান চৌমুহনীতে। সেখানে অবস্থিত শ্রী রাম ঠাকুর সমাধি মন্দির বা কৈবল্যনাথের আশ্রম এক প্রশান্তির নাম। ১৯৪২ সালে ভক্ত উপেন্দ্রনাথ সাহা ও তাঁর ভাই নরেন বাবুর বিশেষ উদ্যোগে এখানে শ্রী রাম ঠাকুরের বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর গন্তব্য ছিল সোনাইমুড়ীর জয়াগ গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক গান্ধী আশ্রম। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরবর্তী শান্তি মিশনে মহাত্মা গান্ধী এখানে এসেছিলেন। ১৯৪৭ সালে তিনি অম্বিকা-কালীগঙ্গা দাতব্য ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট হিসেবে গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করছে।
নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থানের তালিকায় আরও রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর, কল্যান্দি জমিদারবাড়ি, বজরা শাহী মসজিদ, নিঝুম দ্বীপ ও স্বর্ণ দ্বীপের মতো প্রাকৃতিক নিসর্গ। রাস্তার দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া আর শিমুলের মায়াবী রূপ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এই ভ্রমণ যেন ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন, যা পর্যটকদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
ঐতিহ্যের জনপদ নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থান ও ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঘুরে আসুন গান্ধী আশ্রম ও রাম ঠাকুরের সমাধি মন্দিরে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এক অনন্য ভ্রমণের গল্প।



0 মন্তব্যসমূহ