আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে ভোলার সরকারি স্কুল মাঠে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর থেকে জানাজার প্রস্তুতির কাজ শুরু হলেও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিরোধিতার কারণে সেখানে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জানাজাস্থলে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই জানাজাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা কাজ করছে। সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটুর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী জানাজাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানাজা করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। তারা পুলিশকে সাফ জানিয়ে দেন যে, জানাজাকে কেন্দ্র করে যদি কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া হয়, তবে তারা তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবেন। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম ঘটনাস্থলে এসে যুবদলের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টায় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও সোয়া ২টা পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদের মরদেহ মাঠে আনা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বাধার কারণেই মরদেহ আনতে বিলম্ব হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তারা জানান।
সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটু বলেন, ২০২২ সালে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি নুরে আলম নিহত হয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন তার জানাজা এই সরকারি স্কুল মাঠে করতে দেয়নি। এছাড়া তোফায়েল আহমেদ সংসদে দাঁড়িয়ে নুরে আলমের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছিলেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেলও একই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা জানাজার গেটে অবস্থান করবেন এবং কোনো উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে।
অন্যদিকে, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বাহালুল মোল্লা জানাজা সম্পন্ন করতে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। বর্তমানে জানাজাস্থলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত হতে শুরু করলেও সবার মধ্যে এক ধরনের অজানা শঙ্কা ও আতঙ্ক কাজ করছে।
ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বাধার মুখে জানাজা বিলম্বিত হওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।



0 মন্তব্যসমূহ