সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাত্র ৩০ থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এসব তালিকায় নাগরিকদের নাম, ভোটার নম্বর, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, পেশা ও স্থায়ী ঠিকানার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। ডিজিটাল রাইটসের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর এই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। মূলত মনোনীত প্রার্থীদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা এই তালিকাই এখন বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে অর্থের বিনিময়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অন্তত ১৫টি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০০টিরও বেশি পোস্টের মাধ্যমে এই তালিকা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি ফেসবুকের বিজ্ঞাপন লাইব্রেরিতেও এ সংক্রান্ত একাধিক সচল বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর গুগল ড্রাইভ লিংকের মাধ্যমে এসব তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। কেবল ফেসবুক নয়, টেলিগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপেও এই তালিকা বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে বিতরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, প্রার্থীদের পিডিএফ আকারে তালিকা দেওয়া হলেও তা বিক্রির কোনো অনুমতি কমিশনের পক্ষ থেকে নেই। কোনো প্রার্থীর মাধ্যমে বা কম্পিউটারের দোকান থেকে এই তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। এদিকে, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২৬ কার্যকর থাকলেও ব্যক্তিপর্যায়ে এমন তথ্য বিক্রির ক্ষেত্রে আইনি প্রয়োগ নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন সতর্ক করে বলেন, এই তথ্য ব্যবহার করে অপরাধীরা জাল পরিচয়পত্র তৈরি, ব্যাংক জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধ ঘটাতে পারে। নাগরিকদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত অডিট ও বিশেষ বাজেটের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা এখন ফেসবুকে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের এই ঘটনায় বাড়ছে সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতির ঝুঁকি।



0 মন্তব্যসমূহ