বাবা দিবস উপলক্ষে নিজের প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ফারজানা আহমেদ লিসা। শৈশবের কঠিন দিনগুলোতে বাবার ত্যাগ এবং সন্তানদের মানুষ করার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
লিসা জানান, তিনি যখন স্কুলে পড়তেন, তখন মাত্র ৪১ বছর বয়সে তাঁর বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়। সেই প্রতিকূল সময়ে সংসারের হাল ধরতে তাঁর মা ফেনী মহিলা কলেজে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। মা কর্মস্থলে থাকলেও খুলনায় থেকে সন্তানদের আগলে রাখেন বাবা। লিসা ও তাঁর ভাইয়ের পড়াশোনা এবং বেড়ে ওঠার পুরো দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বাবার আদর্শের কথা উল্লেখ করে লিসা বলেন, তাঁর বাবা পড়াশোনার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন, বিদ্যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোই জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। লিসা যখন চট্টগ্রামে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করতেন, তখন বিকাশ বা বর্তমানের মতো অনলাইন লেনদেন ছিল না। সেই সময়ে বাবা নিজে চট্টগ্রাম গিয়ে মেয়ের হাতে টাকা পৌঁছে দিতেন।
গত ডিসেম্বরে লিসার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। বাবার সততা ও ধৈর্যশীল জীবনের স্মৃতিচারণ করে লিসা বলেন, এক প্রজন্মের আগের বাবারা যেভাবে প্রতিকূলতা জয় করেছেন, তা বর্তমান সময়ে কল্পনা করাও কঠিন। নিজের সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রেও তিনি বাবার শেখানো আদর্শ ও সাহসকে পাথেয় হিসেবে মানছেন। পরিশেষে তিনি তাঁর বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বাবা দিবসে প্রয়াত বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন ফারজানা আহমেদ লিসা। শৈশবে বাবার অসুস্থতা ও মায়ের কর্মস্থলে থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সন্তানদের মানুষ করার এক অনন্য সংগ্রামের গল্প এটি।



0 মন্তব্যসমূহ