বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির রেষারেষি ও সহিংসতা এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অক্সফোর্ড ডিবেটিং সোসাইটির আমন্ত্রণে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের হেনস্তা করার চেষ্টা চালায় বিগত সরকারের সমর্থকরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে নিউইয়র্কেও। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সময় তাঁর প্রতিনিধিদলের পথরোধ করার চেষ্টা করে একদল বিক্ষোভকারী। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও হাঙ্গামার ঘটনা ঘটে। এমনকি বিমানবন্দরের বাইরে এক ছাত্রনেতাকে হেনস্তা থেকে বাঁচাতে পুলিশি পাহারার প্রয়োজন হয়। পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায় এসব রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও লেখক জিয়াউদ্দিন চৌধুরী তাঁর এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশিদের মধ্যে বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক দলাদলি অনেক বেশি প্রকট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বড় শহরগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শাখা থাকলেও তাদের মূল লক্ষ্য থাকে দেশে সুবিধা আদায় করা। এই রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি প্রবাসীদের দেশের নেতিবাচক রাজনীতির চর্চা বিদেশের মাটিতে না করে স্থানীয় সমাজ ও দেশের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি রাজনৈতিক সমর্থকদের ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অক্সফোর্ড ও নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক হাঙ্গামা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।



0 মন্তব্যসমূহ