যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘোষিত কঠোর নিয়ম থেকে আংশিক সরে এসেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। গত সপ্তাহে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিশেষ কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া স্থায়ী রেসিডেন্সির আবেদনকারী সমস্ত অভিবাসীকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। তবে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে মার্কিন প্রশাসন এখন স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো ঢালাও নিয়ম নয় এবং সব অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পূর্বের মূল নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। গ্রিনকার্ড আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি এখতিয়ার আগে থেকেই ছিল। মূলত যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা যারা সরকারি সহায়তার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি বেশি প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশাসনের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনকে বিশেষজ্ঞরা ‘আংশিক ইউ-টার্ন’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে এই ব্যাখ্যার পরও অভিবাসী এবং আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। থার্ড ওয়ে নামের একটি সামাজিক নীতি নির্ধারণী সংস্থার প্রধান ও ইউএসসিআইএস-এর সাবেক কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স বলেন, জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রশাসন এখন তাদের তৈরি করা জটলা সামাল দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের মতো বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত নেতিবাচক হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদনই মঞ্জুর করা হয়েছে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রশাসনের এই পিছুটান অভিবাসী মহলে কিছুটা স্বস্তি দিলেও আইনি অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড পাওয়ার কঠোর নিয়মে আংশিক পরিবর্তন এনেছে প্রশাসন। সব অভিবাসীকে দেশ ছাড়তে হবে না বলে জানিয়েছে ডিএইচএস। কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।



0 মন্তব্যসমূহ