ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিঝিয়াতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
রোববার টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি টারবাইন ভবনে ড্রোনটি আঘাত হানে। আইএইএ জানিয়েছে, কেন্দ্রটির রুশ কর্তৃপক্ষ তাদের এই হামলার বিষয়ে অবহিত করেছে। ড্রোন হামলার ফলে ভবনের দেয়ালে একটি গর্ত তৈরি হলেও মূল যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এই ঘটনাকে ইউক্রেনের একটি পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দাবি করেছে। রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেক্সেই লিকাচেভ রুশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ড্রোনটি ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু রাশিয়া বা ইউক্রেন নয়, বরং বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা একটি স্থাপনায় তারা কেন হামলা চালাবে, তা বোধগম্য নয়।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো মানে আগুন নিয়ে খেলা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর বা সেখান থেকে হামলা চালানো উচিত নয়। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রুশ বাহিনী কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ করে আসছে।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় বাড়ছে উত্তেজনা। আইএইএ প্রধান একে আগুন নিয়ে খেলার সাথে তুলনা করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন এই প্রতিবেদনে।



0 মন্তব্যসমূহ