Recents in Beach

Google Play App

জামায়াত ক্ষমা চাক, চায় বিএনপি

 ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজেদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে জামায়াতে ইসলামীকে, এটাই চাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া অথবা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ ব্যাপারে দলের তৃণমূলের নেতাদেরও চাপ ছিল। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে জামায়াত প্রসঙ্গে বিএনপির ওপর আন্তর্জাতিক মহলেরও চাপ রয়েছে। এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতকে বিএনপির সঙ্গে রাখা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এরপরও বিভিন্ন কারণে জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি বিএনপি। তবে এখন তৃণমূল পর্যায় থেকে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। তাদের এই দাবির সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারাও সহমত পোষণ করছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী যেহেতু পাকিস্তানের সঙ্গে ছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, এজন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। একইসঙ্গে তারা সেসময় যেহেতু জামায়াত নামে স্বাধীনতার বিরোধিতা করছে, ফলে তাদের এই নামও পরিবর্তন করা উচিত।’  
জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশ ভাগের সময় (১৯৪৭ এর ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টি) জামায়াত পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তারা তখনও ক্ষমা চায়নি বা তাদের কেউ ক্ষমা চাইতেও বলেনি। পরে (১৯৭১ সালে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তারা, এজন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ 
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেরিতে হলেও ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক (জামায়াত থেকে পদত্যাগী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি) একটা ভালো কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত ভূমিকা কী ছিল তা তিনি অনুধাবন করেছেন।’
এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৭১ সালে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এখন সেই ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই বিষয়টি আমরা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অনেকবার ইঙ্গিতও দিয়েছি।’
রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা বলেন, ‘যে কেউ ভুল করলে ক্ষমা চাইতে হবে। সেটা আমি হই বা জামায়াত ইসলামী।’    
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তরুণ প্রজন্মের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজেদের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভুল করলে ক্ষমা চাওয়া প্রথম দায়িত্ব।’   
ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, তরুণ প্রজন্ম হিসেবে চাওয়া, জামায়াত যেন তাদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়। তারা ক্ষমা চাইলে ভালো হবে বলে আমি মনে করি। এতে তাদের দলের তরুণ নেতাদের জন্যও ভালো হবে।’
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের ৩ ও ৪ আগস্ট দুই দিনব্যাপী জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেসব বৈঠকেও ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে হাইকমান্ডকে মতামত দিয়েছেন দলটির তৃণমূল নেতারা।
/বাংলা ট্রিবিউন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য