Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রামে আমনের আবাদ কমলেও উচ্চফলনশীল জাতের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বিশ হাজার টন

চট্টগ্রামে আমনের আবাদ কমলেও উচ্চফলনশীল জাতের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বিশ হাজার টন

চট্টগ্রামে গত পাঁচ বছরে আমনের আবাদ সামান্য কমলেও উৎপাদন বেড়েছে ২০ হাজার টনের বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষের পরিধি বাড়ায় আবাদি জমি হ্রাসের মধ্যেও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও তুলনামূলক কম দামের কারণে কৃষকদের লাভ সীমিত থাকছে বলে জানা গেছে। সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, ভালো ফলনের আশা থাকলেও শ্রমিকের মজুরি এবং সারসহ উৎপাদন খরচ মেটানোর পর লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যায়। তাঁর ভাষ্যমতে, ধান কাটার একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এবং তিন বেলা খাবার বাবদ খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যার ফলে উৎপাদিত ধানের কাঙ্ক্ষিত আর্থিক লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বাঁশখালীর সাধনপুরের কৃষক আবদুল হাকিম এবং চন্দনাইশের কৃষক মোতালেব ইসলামও। কৃষকদের অভিযোগ, ধানের দাম সেভাবে বাড়ছে না এবং সরকারি গুদামে সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ না থাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। এছাড়া সার সংগ্রহে ভোগান্তির অভিযোগও করেছেন কৃষকেরা। অন্যদিকে, কম সময়ে বেশি লাভের আশায় অনেক কৃষক আমন বাদ দিয়ে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা জানান, আমন চাষের তুলনায় সবজি চাষে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে আয় শুরু করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের ঝোঁক সেদিকে কিছুটা বেশি। তবে বর্ষার বৃষ্টিতে সেচ খরচ কম লাগায় কৃষকেরা এখনো আমন চাষ ধরে রেখেছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রামে ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৭১ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়ে ৫ লাখ ১০ হাজার ২২৯ টন উৎপাদন হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবাদ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৯ হেক্টরে নামলেও উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৬২৬ টনে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে আবাদ ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও উৎপাদন বেড়েছে ৪ শতাংশ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আতিক উল্লাহর মতে, ব্রি ধান-৮৭ ও ১০৩ এবং হাইব্রিড জাতের উৎপাদনক্ষমতা বেশি হওয়ায় জমির পরিমাণ কমলেও মোট ফলন বেড়েছে। তবে শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও বসতবাড়ি নির্মাণে জমি কমা, সেচসংকট এবং ৩৬ হাজার হেক্টরের বেশি লবণাক্ত জমি চাষাবাদের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষকদের লাভ বাড়াতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ধান কাটার সুযোগ বাড়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংক্ষেপে:
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে আমনের আবাদ কিছুটা কমলেও উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের কারণে উৎপাদন বেড়েছে ২০ হাজার টনের বেশি। তবে শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের লাভ সীমিত থাকছে।
চট্টগ্রামে আমনের আবাদ কমলেও উচ্চফলনশীল জাতের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বিশ হাজার টন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ