চট্টগ্রামে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি ডেঙ্গু এবং হামের প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বহির্বিভাগে পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন সাবরিনা আক্তার। তিনি জানান, মেয়ের কয়েক দিন ধরে জ্বর না কমায় এবং চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণের খবর শুনে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর তাঁর আতঙ্ক কিছুটা কমে। সাবরিনা আক্তারের মতো নানা বয়সী রোগী জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শরীরব্যথার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এ সময়ে মৌসুমি জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দেখা দিলেও ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ থাকায় জ্বরকে সাধারণ মৌসুমি অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং ভাইরাসের কারণে এই সময়ে জ্বর বাড়ে। জ্বর কোনো রোগ নয়, বরং শরীরে কোনো সমস্যা বা সংক্রমণের উপসর্গ। জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, পানিশূন্যতা রোধে তরল খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়ছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি মো. আবু তৈয়ব জানান, শরীরে ব্যথা ও জ্বর বাড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে চার হাজার ৪৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪৩০ জন এবং মারা গেছেন ১৬ জন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশক নিধন অভিযান ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি শিশুদের শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ায় হাম নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ৯ হাজার ৬ জন ভর্তি হয়েছেন এবং ৭৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হাম সন্দেহে ২৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট Foundation-এর গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অবস্থানকালে সংক্রমিত হয়েছেন এবং ৪৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। মুখ্য গবেষক কামরুন নাহার জানান, হামের ক্ষেত্রে শিশুর পুষ্টির অবস্থাও রোগের তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই টিকাদানের পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিত করা ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বারবার বমি, খিঁচুনি বা র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা কাজী আশিক আমান জানান, জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হয়ে প্রথম দুই-তিন দিন লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চট্টগ্রামে মৌসুমি জ্বরের পাশাপাশি বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ। জ্বর দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।


0 মন্তব্যসমূহ