চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা ১৫১টি মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫টির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি মামলায় অভিযোগপত্র এবং ৩টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাহতদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া ১৫১টি মামলার মধ্যে নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় ৬৯টি এবং আদালতে ৮২টি নালিশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫০ জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার। আসামিদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং চট্টগ্রামের সাবেক দুই সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিমের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম এবং সাবেক কাউন্সিলর নুর মোস্তফা ও শৈবাল দাশকেও আসামি করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা ৬৯টি মামলায় মোট ২১ হাজার ৯০৬ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের এক-তৃতীয়াংশই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ১৫টি হত্যা মামলার মধ্যে কেবল চান্দগাঁও থানায় করা শহীদুল ইসলাম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে। এতে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও মহিবুল হাসান চৌধুরীসহ ২৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ছোড়া ১০টি গুলি শহীদুলের শরীরে লেগেছিল।
অন্যান্য ঘটনার মধ্যে ৫ আগস্ট নগরের লালদীঘির পাড় এলাকায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন এবং ৪ আগস্ট নিউমার্কেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কাউসার মাহমুদ নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়েছেন তাদের পরিবার। মামলার তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা ও নগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) নেছার আহমেদ জানান, অনেক মামলায় ঢালাওভাবে আসামি করা এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে। তবে নিরীহ কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীরা পার না পায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েদ কাউসার এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর জানিয়েছেন, অধিকাংশ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ১৫১টি মামলার মধ্যে মাত্র ১৫টির তদন্ত শেষ হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ও মেয়রসহ হাজারো আসামি থাকলেও তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ স্বজনরা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।



0 মন্তব্যসমূহ