হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিরল ও দুর্লভ পরিযায়ী পাখি ‘তুষার-ভ্রু চটক’-এর দেখা মিলেছে। শ্বেতশুভ্র চওড়া ভ্রু আর নীল-কমলা রঙের এই ক্ষুদ্রাকার পাখিটি এ দেশের অন্যতম বিরল একটি পরিযায়ী প্রজাতি। পাখি ও বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ন ম আমিনুর রহমান এই দুর্লভ পাখিটির দেখা পাওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
অধ্যাপক আ ন ম আমিনুর রহমান জানান, গাইড প্রসেনজিৎ দেববর্মা এবং পক্ষী আলোকচিত্রী ডা. শাহেনশাহ বাপ্পির সাথে তিনি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহিন অরণ্যে যান। সেখানে প্রয়াত ফরেস্ট রেঞ্জার মুনির আহমেদের উদ্যোগে বন্য প্রাণীদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তৈরি করা একটি ছোট পুকুরপাড়ে তারা অবস্থান নেন। সেখানেই বিকেল ৩টার দিকে চমৎকার স্বরে গান গাইতে গাইতে ঝোপ থেকে বেরিয়ে আসে পুরুষ তুষার-ভ্রু চটকটি। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর পাখিটি পুকুরের পানিতে নেমে গোসল সেরে নেয়।
তুষার-ভ্রু চটক বা ‘স্নোয়ি-ব্রাউড ফ্লাইক্যাচার’ দৈর্ঘ্যে মাত্র ১১ সেন্টিমিটার এবং ওজনে মাত্র ৯ গ্রাম হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দেহের উপরিভাগ ধূসরে-নীল এবং নিচের অংশ লালচে-কমলা রঙের হয়। এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো তুষারের মতো সাদা ও প্রশস্ত ভ্রুরেখা। অন্যদিকে, স্ত্রী পাখির দেহের উপরিভাগ জলপাই-বাদামি এবং গলা ও বুক ঘিয়ে-সাদা রঙের হয়। এদের চোখ বাদামি এবং ঠোঁট কালো রঙের হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে এই পাখিদের সাধারণত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনে দেখা যায়। আর্দ্র ঘন জঙ্গলের নিচু ঝোপঝাড় ও বাঁশবনে এরা বিচরণ করে। সচরাচর একাকী বা জোড়ায় থাকা এই পাখিগুলো কীটপতঙ্গ, কেঁচো ও ছোট ফল খেয়ে জীবনধারণ করে। এপ্রিল থেকে জুন মাস এদের প্রজননকাল। সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর আয়ু হলেও এই প্রজাতির পাখি ৮ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত বাঁচার রেকর্ড রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই পাখির বিচরণ দেখা যায়।
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলল বিরল পরিযায়ী পাখি তুষার–ভ্রু চটকের। নীল-কমলা রঙের এই ক্ষুদ্রাকার পাখিটির সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



0 মন্তব্যসমূহ