প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন যে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল মূলত সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং এর কৃতিত্ব কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির নয়। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এই সভায় তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত ১৭ বছর বিএনপি ও সমমনা দলগুলো রাজপথে থেকে জনগণের পাশে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য বিএনপির প্রস্তাবিত ৩১ দফা এখন জাতীয় রূপরেখায় পরিণত হয়েছে। দেশ পুনর্গঠনে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, জ্বালানি সংকট কাটাতে মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করবে। এছাড়া বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন রিগ কেনা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের বাধা দূর হয়েছে এবং বন্ধ থাকা ৫০টি বিটিএমসি কারখানা বেসরকারি উদ্যোগে চালু করা হবে। স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং ডায়ালাইসিস সেবা সহজলভ্য করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ আনন্দময় করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে ক্রীড়া চর্চায় জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে জনগণের আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে দেশ পুনর্গঠনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।



0 মন্তব্যসমূহ