জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং ৫ আগস্টের নাটকীয় ঘটনাবলি নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেদিনের নেপথ্যের নানা অজানা তথ্য তুলে ধরেন।
ফজলে এলাহী আকবর জানান, ৪ আগস্ট দিবাগত রাতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে ফোন করে পরদিন সকালে দেখা করতে বলেন। ৫ আগস্ট সকালে সেনাপ্রধানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তিনটি বিষয় স্পষ্ট করেন। তিনি কোনো রক্তপাত চান না, নিজে ক্ষমতা নিতে আগ্রহী নন এবং চলমান সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধান চান। সেনাপ্রধান তাকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব দেন।
সেনাপ্রধানের বার্তা পেয়ে ফজলে এলাহী আকবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, মাহমুদুর রহমান মান্না ও জোনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর বেলা দেড়টার দিকে সেনাসদরে রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠক চলাকালে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর আসে। পরবর্তীতে সেনাপ্রধানের অনুরোধে রাজনৈতিক নেতারা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বঙ্গভবনের সেই বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গোপন বন্দিশালা বা আয়নাঘর থেকে বন্দীদের মুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ফজলে এলাহী আকবর জানান, সেনাপ্রধানের দৃঢ় অবস্থানের কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কোনো ধরনের অস্থিরতা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলেন। তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সিদ্ধান্তটি ছিল তৎকালীন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের রক্তপাত এড়ানোর সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
৫ আগস্টের নেপথ্য ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। সেনাপ্রধানের ফোন থেকে শুরু করে বঙ্গভবনের বৈঠক পর্যন্ত নানা অজানা তথ্য উঠে এসেছে তার এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে।


0 মন্তব্যসমূহ