পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের প্রভাবে তীব্র বরফ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বরফ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বাজারে বরফের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আগে যে বরফের ক্যান ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পর্যাপ্ত টাকা দিয়েও চাহিদামতো বরফ না মেলায় সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারছে না শত শত ট্রলার।
ইলিশের ভরা মৌসুমে এমন সংকটে পড়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে প্রায় ৩৬টি বরফকল থাকলেও বিদ্যুৎ সংকটে সেগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বরফ তৈরি করতে পারছে। এতে ট্রলার মালিকদের পাশাপাশি বরফকল মালিকরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মহিপুর মৎস্য কেন্দ্রে অবস্থানরত বাঁশখালীর ‘এফবি সোনাবানু’ ট্রলারের মাঝি সায়েদ মিয়া জানান, সাগরে যাওয়ার জন্য তাদের অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ ক্যান বরফ প্রয়োজন। কিন্তু গত পাঁচ দিন অপেক্ষা করেও তারা কোনো বরফ পাননি। আলীপুরের ‘এফবি নুরজাহান’ ট্রলারের মালিক মিজান হোসেন বলেন, বরফ না থাকায় ভরা মৌসুমেও তাদের ঘাটে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ‘খান ফিশ’ আড়তের মালিক রহিম খান জানান, সংকট মেটাতে অতিরিক্ত খরচ করে খুলনা ও বরিশাল থেকে বরফ আনতে হচ্ছে।
পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাশেম জানান, জেলায় ১৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এই ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে জ্বালানি সংকট কাটলে এবং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো চালু হলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ইলিশের ভরা মৌসুমেও সাগরে যেতে পারছে না শত শত মাছ ধরার ট্রলার। বরফের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলেরা।
-6a79c8c227bcd.webp)


0 মন্তব্যসমূহ