২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯ জন ঢাকায় এবং ৮ জন ঢাকার বাইরে প্রাণ হারান। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
সকাল থেকেই বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে মেরুল বাড্ডার কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভেতরে পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তাদের হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়। রাজধানীর উত্তরা, রামপুরা, ধানমন্ডি ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা দিনভর উত্তাল ছিল। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।
এই সর্বাত্মক অবরোধের ফলে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিকেলে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিটিভি ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে এবং সন্ধ্যা থেকে বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করে এবং রাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও কোটা সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন শুধু কোটায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরবর্তীতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রতিবেদনেও এই দিনে নির্বিচার গ্রেপ্তার ও ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে আসে।
১৮ জুলাই দেশজুড়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে ব্যাপক সংঘর্ষে ২৭ জন নিহত ও দেড় সহস্রাধিক আহত হয়েছেন। রাজধানীসহ সারা দেশে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে এবং হেলিকপ্টারে পুলিশ উদ্ধার করা হয়।


0 মন্তব্যসমূহ