২০২৬ সালে পালিত হচ্ছে জনপ্রিয় রহস্য ও গোয়েন্দা কাহিনী রচয়িতা রোমেনা আফাজের জন্মশতবর্ষ। বগুড়ার মফস্বল শহরে জীবন অতিবাহিত করেও তিনি দস্যু বনহুর ও দস্যুরানী সিরিজের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। পুলিশের দারোগার কন্যা রোমেনা আফাজের বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১৩ বছর বয়সে। সাংসারিক ব্যস্ততা ও ৯ সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ১৯৪৩ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং লেখালেখি চালিয়ে যান।
১৯৬০-এর দশকে দস্যুরানী সিরিজের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যিক যাত্রা শুরু হলেও ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত দস্যু বনহুর তাঁকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি এই সিরিজের মোট ১৩৮টি খণ্ড রচনা করেন। তৎকালীন সময়ে ঢাকা বা চট্টগ্রামের মূলধারার প্রকাশনী নয়, বরং বগুড়ার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান সাহিত্য কুটির থেকেই তাঁর বইগুলো প্রকাশিত ও বিপণিত হতো। রোমেনা আফাজের লেখায় কেবল রোমাঞ্চ নয়, বরং অত্যাচারী ভূস্বামীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সাহিত্য সমালোচকদের মতে, রোমেনা আফাজ ছিলেন একজন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তাঁর লেখায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের দুর্দশার চিত্র নিপুণভাবে উঠে এসেছে। যদিও ভাষাশৈলী বা ব্যাকরণগত কারণে মূলধারার সাহিত্যে তিনি দীর্ঘকাল অবহেলিত ছিলেন, তবে বর্তমান সময়ে তাঁকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর বা সাবঅলটার্ন ভয়েস হিসেবে নতুনভাবে মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানার সঙ্গে তুলনীয় এই লেখক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর নাম হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
জনপ্রিয় দস্যু বনহুর সিরিজের স্রষ্টা রোমেনা আফাজের জন্মশতবর্ষে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশেষ আয়োজন। মফস্বল থেকে উঠে আসা এই নারী লেখকের অসামান্য অবদান আজ নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে।



0 মন্তব্যসমূহ