Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

পেকুয়ার শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিতে ভাসছেন মা-বাবা: শেষ স্ট্যাটাস ছিল ‘চলে আসুন ষোলোশহর’

পেকুয়ার শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিতে ভাসছেন মা-বাবা: শেষ স্ট্যাটাস ছিল ‘চলে আসুন ষোলোশহর’

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ষোলোশহরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মোহাম্মদ ওয়াসিম। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকার এই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় তার পরিবারকে। ওয়াসিম ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ড্রয়িংরুমের দেয়ালে ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে তার ছবি ও ফেসবুকের শেষ পাঁচটি স্ট্যাটাস। তার শেষ স্ট্যাটাসটি ছিল মাত্র তিন শব্দের— ‘চলে আসুন ষোলোশহর’। ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম ছেলের স্মৃতিবিজড়িত ১৮-২০টি ক্রেস্ট ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন। তিনি জানান, গত বছরের বন্যায় ওয়াসিম বাড়িতে এসে সব কাজ করে দিয়েছিল, কিন্তু এবারের বন্যায় সে আর নেই। রাতে ছেলের অপেক্ষায় বারবার তার ঘুম ভেঙে যায় এবং সারা শরীর যন্ত্রণায় কুঁকড়ে ওঠে।

শহীদ ওয়াসিমের ছোট বোন সাবরিনা ইয়াসমিন জানান, ১৬ জুলাই সকালে ভাইয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে ষোলোশহর আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ওয়াসিমসহ তিনজন প্রাণ হারান। সাবরিনা তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম দিনের অধিকাংশ সময় কাটান ছেলের কবরের পাশে। তিনি বলেন, ছেলের কবরের পাশে গেলে মনে হয় ওয়াসিম তাকে ডাকছে। তিনি ও তার পরিবার এখন শুধু ওয়াসিমসহ সকল শহীদের হত্যার বিচার চান। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন বিএনপি নেতা তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করে পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।

সংক্ষেপে:
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ষোলোশহরে কোটা আন্দোলনে শহীদ হন পেকুয়ার মোহাম্মদ ওয়াসিম। তার স্মৃতি হাতড়ে আজও কাঁদছেন মা-বাবা। পরিবারের একমাত্র দাবি, ওয়াসিম হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
পেকুয়ার শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিতে ভাসছেন মা-বাবা: শেষ স্ট্যাটাস ছিল ‘চলে আসুন ষোলোশহর’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ