জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে দুই চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার তরুণ মো. আমান উল্লাহ। তবে শারীরিক এই সীমাবদ্ধতাকে জয় করে তিনি এখন পরনির্ভরশীলতা কাটাতে চান। কেবল সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর না থেকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেকে উৎপাদনমুখী করার স্বপ্ন দেখছেন এই ‘জুলাই যোদ্ধা’।
২২ বছর বয়সী আমান উল্লাহ লংগদু মডেল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে আন্দোলনে থাকাকালে তিনি রাবার বুলেটে আহত হন। পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে যোগ দিয়ে জেলখানার মোড় এলাকায় পুলিশের ছররা গুলিতে তাঁর দুই চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৯ দফা অস্ত্রোপচারের পরও তাঁর দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সার্জিক্যাল রেটিনা বিভাগের প্রধান সহযোগী পরামর্শক অপরাজিতা রায়হান জানান, আমান উল্লাহর চোখে ‘গানশট ইনজুরি’ ছিল। রেটিনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় দৃষ্টিহীন। তবে কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের পর তিনি এখন পরিচিত পরিবেশে সামান্য অবয়ব ও আলোর ঝলক বুঝতে পারেন।
বর্তমানে আমান উল্লাহ ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত গুরুতর আহত হিসেবে মাসিক ২০ হাজার টাকা সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। চিকিৎসার সহায়তায় পাওয়া টাকায় বাড়ির পাশে একটি মুদিদোকান দিলেও তিনি নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে চান। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের টঙ্গীতে জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আমান উল্লাহর মতে, সরকার যদি দৃষ্টিহীনদের উৎপাদনমুখী করতে বিশেষ নজর দেয়, তবে তারা সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারবে।
জুলাই আন্দোলনে দৃষ্টি হারানো আমান উল্লাহ কেবল ভাতার ওপর নির্ভর করতে চান না। তিনি প্রশিক্ষণ ও কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সরকারের কাছে তার দাবি, দৃষ্টিহীনদের উৎপাদনমুখী করতে বিশেষ নজর দেওয়া হোক।



0 মন্তব্যসমূহ