ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা, যানবাহন বিকল হওয়া এবং বিশ্বরোড গোলচত্বরের গর্তের কারণে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই অচলাবস্থা বজায় থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হওয়ার মাধ্যমে যানজটের সূত্রপাত ঘটে। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সরাইল উপজেলার বেড়তলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের চাপায় তোফাজ্জল হোসেন (৩৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা বাস ভাঙচুর করে মহাসড়কে অবস্থান নেয়, যা যানজটকে আরও ঘনীভূত করে।
একই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে পশ্চিম কুট্টাপাড়া এলাকায় দুটি পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে যান চলাচল পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রাক দুটি সরিয়ে নিলেও মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ জট তৈরি হয়। শুক্রবার দুপুরে দেখা যায়, যানজট বেড়তলা থেকে বাড়িউরা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক এবং সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কেও পড়েছে।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাতেন জানান, একদিকে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে বিশ্বরোড মোড়ের দক্ষিণ পাশের গর্ত অতিক্রম করতে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া অনেক চালক নিয়ম না মেনে উল্টো পথে যাওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও গর্তের কারণে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।



0 মন্তব্যসমূহ