ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় নাচের ছন্দে ও সুরের মূর্ছনায় বর্ষাকে বরণ করে নিয়েছে হাজারো মানুষ। শুক্রবার সকালে অর্থি আহমেদ ড্যান্স একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঘনঘটা-২’ অনুষ্ঠানে এই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থি আহমেদের এই বিশেষ আয়োজনে ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রায় তিন শতাধিক শিল্পী ১৬টি নৃত্য পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী নির্ঝর চৌধুরীর কণ্ঠে ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ গানের মাধ্যমে এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের বিভিন্ন গানে নৃত্য পরিবেশিত হয়। আয়োজক অর্থি আহমেদ জানান, নগরজীবনে বর্ষা মানেই কেবল যানজট বা কাদা নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতিতে উৎসব ও নবজাগরণের প্রতীক। সেই হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিকে ফিরিয়ে আনতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে, যার সারি শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মঞ্চে পারফর্ম করা শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ, যারা অর্থি আহমেদের ‘অ্যাডাল্ট বিগিনার্স কোর্স’-এর শিক্ষার্থী। একাডেমির প্রশিক্ষক মুনিরা রহমান নতুন শিল্পীদের এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাংস্কৃতিক এই আয়োজনের পাশাপাশি একটি মানবিক উদ্যোগও লক্ষ্য করা গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জাগো ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে তহবিল সংগ্রহ করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই মেয়েকে নিয়ে আসা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুর রহমান এই আয়োজনকে প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি নামেনি, তবে নাচের উচ্ছ্বাসে সিক্ত হয়েই ঘরে ফেরেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বকুলতলায় নাচের ছন্দে বর্ষাকে বরণ করে নিল হাজারো মানুষ। অর্থি আহমেদ ড্যান্স একাডেমির আয়োজনে তিন শতাধিক শিল্পীর নান্দনিক পরিবেশনায় মুখর ছিল চারুকলা প্রাঙ্গণ।



0 মন্তব্যসমূহ