চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হালদা নদীর ওপর নির্মাণাধীন পাঁচপুকুরিয়া-সিদ্ধাশ্রম সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। ৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুন্দরপুর-সুয়াবিল ইউনিয়ন সংযোগকারী এই সেতুর কাজ ২০২৬ সালের ২০ জুলাই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রকল্পের বড় একটি অংশই অসমাপ্ত রয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা তাদের সময় ও খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ২৪০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি। ৩০ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পাইল ও পিয়ার ক্যাপের কাজ শেষ হলেও গার্ডার সংযোগ, ডেক স্লাব এবং সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ এখনো বাকি। স্থানীয়দের দাবি, কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশের বেশি নয়, যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি এটি ৬০ শতাংশ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহের এন্ড ব্রাদার্স-এর ব্যবস্থাপক মো. শাহিন জানান, কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় এক বছর পর চূড়ান্ত নকশা হাতে পাওয়ায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণ সমস্যা এবং পাহাড়ি ঢলকেও তিনি দেরির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, সেতুটি সময়মতো চালু না হওয়ায় সুন্দরপুর, পূর্ব সুয়াবিল ও পাঁচপুকুরিয়া চাঁদের ঘোনা এলাকার মানুষকে বিবিরহাট বা নাজিরহাট যেতে অতিরিক্ত দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদকর্মী সাইফুর রহমান সোহান এই ধীরগতির পেছনে গাফিলতি ও পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রহমত জানান, দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের কষ্টের সীমা নেই।
উল্লেখ্য, কার্যাদেশ জারির আগেই তৎকালীন সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর পক্ষে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব এই কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী জানান, মূল কাঠামোর কাজ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ বাকি আছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফটিকছড়িতে হালদা নদীর ওপর নির্মাণাধীন পাঁচপুকুরিয়া-সিদ্ধাশ্রম সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে ৫০ হাজার মানুষ। ৪৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ এখনো অর্ধেক বাকি।



0 মন্তব্যসমূহ