দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদে ১২ জন মনোনীত পরিচালক রাখার বিধান এবং নির্বাচনের নতুন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মনোনীত পরিচালক প্রথা পদ-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচিতদের পাশাপাশি অনির্বাচিতদের পরিচালক হওয়া অস্বস্তিকর। তবে নেতৃত্ব সংকট কাটাতে দ্রুত বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা চূড়ান্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে এই বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে, যার ওপর আগামী শনিবার পর্যন্ত মতামত দেওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, এফবিসিসিআইয়ের ৪৮ সদস্যের পর্ষদে ৩০ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন এবং ১২ জন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে মনোনীত হবেন। এছাড়া নারী চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে আরও দুজন মনোনীত পরিচালক থাকবেন। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ এই বিধানের বিরোধিতা করে বলেন, ভোট ছাড়া প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হাতে নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী মনে করেন, বিজিএমইএ বা এমসিসিআইয়ের মতো বড় সংগঠনের নেতারা বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আসতে আগ্রহী নন। তাই ফেডারেশনকে শক্তিশালী করতে মনোনীত পরিচালকের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এদিকে, এক ব্যক্তির একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও একটির বেশি ভোট দিতে না পারার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি এই নিয়মকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দ্রুত বিধিমালা চূড়ান্ত হলে স্থবির হয়ে পড়া সংগঠনগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।
এফবিসিসিআই পর্ষদে মনোনীত পরিচালক রাখা এবং এক ব্যক্তি এক ভোট নীতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দ্রুত বিধিমালা চূড়ান্ত করে নেতৃত্ব সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।



0 মন্তব্যসমূহ