চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে বর্তমানে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কল’ এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং তা না দিলে সশরীরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি নগরের চন্দনপুরায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এই সন্ত্রাসী। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তার নির্দেশে ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র যুবক ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই ঘটনার পরপরই জিইসি মোড়ের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মালিককেও একই কায়দায় হুমকি দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ডেভিড ইমন বর্তমানে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করছে। বড় সাজ্জাদ দেশের বাইরে থাকলেও তার হয়ে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ইমন। তার অধীনে অর্ধশতাধিক তরুণের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী রয়েছে। গত এক মাসে অন্তত তিনটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। নগরের অক্সিজেন, মুরাদপুর, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ ও জিইসি এলাকার ব্যবসায়ীরা এই চক্রের মূল লক্ষ্যবস্তু।
পুলিশের নথিতে দেখা যায়, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে অন্তত সাতটি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ২০২৪ সালে আনিস ও মোহাম্মদ হাসানকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বর্তমানে সাজ্জাদ গ্রুপের নগর অংশের নেতৃত্বে রয়েছে ডেভিড ইমন এবং জেলা পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে মোহাম্মদ রায়হান আলম।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, টেলিফোনে হুমকি ও হামলার ঘটনা পুরো আইএসপি শিল্পের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী জানিয়েছেন, চন্দনপুরার হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে মাইকেল নামে এক ব্যক্তিসহ এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রামে হোয়াটসঅ্যাপে চাঁদা দাবি ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলায় নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।



0 মন্তব্যসমূহ