চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম অবকাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া এই বিদ্যালয়ে এক দশকেও কোনো স্থায়ী ভবন নির্মিত হয়নি। বর্তমানে আধা পাকা জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথটি অত্যন্ত সরু এবং এর একপাশে রয়েছে পুকুর। বৃষ্টির সময় পুকুরের পানি বেড়ে যাওয়ায় এবং টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় সেখানে আগাছা ও ঝোপঝাড় জন্মেছে, যা মশা-মাছির প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ফলে দিনের বেলাতেও শ্রেণিকক্ষে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২১৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত আছেন পাঁচজন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণা প্রভা দেবী জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের জন্য বারবার আবেদন করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এমনকি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার (স্লিপ) বরাদ্দ কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজও করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা কমল নাথ জানান, বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিদ্যালয় বা মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) শেষ হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যালয়টিকে পিইডিপি-৫ এর আওতায় আনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহম্মদ আমির উদ্দিন মনে করেন, সরকারি বিদ্যালয়ে মৌলিক অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় অভিভাবকরা আস্থা হারাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। বৃষ্টির পানি আর মশার উপদ্রবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।


0 মন্তব্যসমূহ