ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিল বণ্টনে চরম রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী এবং সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু এই অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ৫০ জন সংরক্ষিত নারী এমপির মধ্যে ৩৭ জনকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্রেফ রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে বাকি ১৩ জনকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সংকীর্ণ মানসিকতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, এটি পুরোনো স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০২৬ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ডা. মাহমুদা মিতু বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং ‘জাতীয় নারী শক্তি’র সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশায় চিকিৎসক এই নেত্রী তার লেখায় প্রশ্ন তোলেন, বৈষম্যহীন যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রক্তের বিনিময়ে এই সংসদ গঠিত হয়েছে, সেখানে কেন এমন বিভাজন বজায় রাখা হচ্ছে? তিনি উল্লেখ করেন, বঞ্চনার শিকার ১৩ জন নারীর মধ্যে আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা নারী এবং একজন বীর শহীদের মা-ও রয়েছেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সংসদে বিভিন্ন দলের নারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তাকে শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ডা. মাহমুদা মিতু আরও সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনাকারী সরকার যদি নিজেই বৈষম্য তৈরি করে, তবে দেশে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা বাধাগ্রস্ত হবে। সরকারের এমন সংকীর্ণতা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু। ১৩ জন সদস্যকে বঞ্চিত করায় তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।



0 মন্তব্যসমূহ