ভারতের ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিলিমিটেশন বিল এবং "ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন" কার্যকর করতে নতুন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সংসদের গত অধিবেশনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিলটি পাস করতে না পারলেও, এবার আঞ্চলিক দলগুলোকে পাশে টেনে নতুন সমীকরণ তৈরির পথে হাঁটছে কেন্দ্র। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর বিজেপি এই উদ্যোগকে আরও জোরালো করেছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের ডিএমকে এখন এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন হলে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের আসন কমার আশঙ্কা থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডিএমকে শর্তসাপেক্ষ আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয় থালাপাতির দল টিভিকে-র উত্থান এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ডিএমকে-র অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। কেন্দ্র যদি দক্ষিণের আসন না কমানোর নিশ্চয়তা দেয়, তবে ডিএমকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জনরোষের কারণে চাপে রয়েছে। বিজেপি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদে তৃণমূলকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করছে। পশ্চিমবঙ্গে জয়ের পর বিজেপির আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, যা তাদের আগ্রাসী কৌশলে স্পষ্ট। এদিকে কংগ্রেস এই ইস্যুতে সর্বদলীয় আলোচনার দাবি জানালেও বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। ডিএমকে নরম হলে এবং তৃণমূল দুর্বল হয়ে পড়লে বিরোধী ঐক্য ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে আনতেই কেন্দ্র এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে ডিলিমিটেশন ও এক দেশ এক নির্বাচন বিল নিয়ে বড় কৌশলে বিজেপি। আঞ্চলিক দলগুলোকে পাশে টেনে রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলাতে মরিয়া কেন্দ্র। বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।



0 মন্তব্যসমূহ