জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের মতো মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ডের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইউনেসকো, মালেয়া ফাউন্ডেশন এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ‘ইয়ুথ অ্যাজ রিসার্চার্স (ইয়ার): ইনডিজেনাস ইয়ুথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক এই উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের পাঁচটি তরুণ গবেষক দল অংশ নেয়।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক চর্চা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত হওয়ায় তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত সম্পদ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কম অংশগ্রহণের কারণে আদিবাসী নারীরা এই প্রভাব আরও বেশি বহন করছেন। গত শুক্রবার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন, ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, চাকমা দল রাঙামাটিতে তরুণদের নেতৃত্বে অভিযোজন কৌশল নিয়ে কাজ করেছে। মারমা দল ঐতিহ্যগত টিকে থাকার পদ্ধতি এবং ম্রো দল তাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘প্লুং’ তৈরির প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে। ত্রিপুরা দল আদিবাসী নারীদের অবস্থা এবং তঞ্চঙ্গ্যা দল পাথর উত্তোলন ও বাগান সম্প্রসারণের ফলে সৃষ্ট পানিসংকট নিয়ে কাজ করেছে। সমষ্টিগতভাবে এই গবেষণাগুলো প্রমাণ করেছে যে জলবায়ু পরিবর্তন আদিবাসীদের জীবিকা ও সামাজিক বাস্তবতায় বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইউনেসকো ও সহযোগী সংস্থাগুলোর যৌথ গবেষণায় এই উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।



0 মন্তব্যসমূহ