হাজার বছরের ইতিহাস ও ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং বহুজাতিক ভ্রাতৃত্বের আবহে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ১২০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠ ঈদের দিন এক ক্ষুদ্র বৈশ্বিক মুসলিম সমাজে রূপ নেয়। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই উৎসবে প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উজ্জ্বল ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও।
গত বুধবার ভোর থেকেই কায়রোর আকাশ-বাতাস মুখর হয়ে ওঠে পবিত্র তাকবির ধ্বনিতে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, করিডোর ও প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলের প্রধান অধ্যাপক হিসাব আল-কাজী। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন। প্রশাসনিক প্রধানের এমন আন্তরিকতা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে আপনত্বের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
মিশরীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা একে অপরকে 'কুল্লু সানা ওয়া আনতুম তাইয়িব' বলে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। প্রবাসের মাটিতে পরিবার ও স্বজনদের থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও আল-আজহারের ইসলামী পরিবেশ ও বৈশ্বিক ভ্রাতৃত্ব শিক্ষার্থীদের একাকীত্ব ও বেদনাকে অনেকটাই প্রশমিত করে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের ঈদের স্মৃতি ও পরিবারের কথা মনে পড়লেও বিশ্বের নানা দেশের মুসলিম ভাইদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য এক অনন্য পাওয়া। ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও বৈশ্বিক ঐক্যের এই মিলনমেলা আবারও প্রমাণ করেছে ইসলাম মানবতা ও সহমর্মিতার এক চিরন্তন সভ্যতা।
মিশরের ঐতিহাসিক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২০ দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এই উৎসব হয়ে ওঠে বৈশ্বিক ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলা।



0 মন্তব্যসমূহ